তথ্যপ্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা সম্প্রসারণে বেসিস আমেরিকা ডেস্ক চালু
জাপানের পর আমেরিকা ডেস্ক গঠন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ। বেসস সদস্য নূর মাহমুদ খান আহ্বায়ক করে এই ডেস্কে ১৩৮ বেসিস সদস্য এই ডেস্কে যুক্ত হয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারকরণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার করতে রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসিস আমেরিকা ডেস্কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস, আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল) মার্টিন হল্টম্যান বক্তব্য রাখেন।
বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাশেদুল হাসান এবং মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল।
অন্যান্যের মধ্যে মার্কিন দূতাবাসের ইকোনোমিক অফিসার জেমস গার্ডিনার, ইক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, সাবেক বেসিস সভাপতি শামীম আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বেসিস আমেরিকা ডেস্ক বাংলাদেশী এবং আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির মধ্যে কৌশলগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, আইওটি এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে উৎসাহিত করবে। বেসিসকে তার সদস্য কোম্পানিদের জন্য মেনটরশীপ নিতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে যেন তারা তাদের ব্যবসা সঠিকভাবে করতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে রফতানি বাড়ানোর জন্য সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। সেবা রফতানি খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তাই মান দিয়েই টিকে থাকতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিসের সহ-সভাপতি (প্রশাসন) সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “বেসিস আমেরিকা ডেস্কের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বৃদ্ধিকরণ। পাশাপাশি, একটি স্মার্ট অর্থনীতি গড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গ্লোবাল আইটি হাব হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করা।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস উভয় দেশের জন্য এর পারস্পরিক সুবিধাগুলি তুলে ধরে এই উদ্যোগের প্রতি তার উচ্ছাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বদ্ধ বাজার থেকে উন্মুক্ত বাজার বেশি ভালো। পোশাক ও সফটওয়্যার রফতানির এআই এর দক্ষ ব্যবহার করতে পারে বাংলাদেশ। তবে এ জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে পাশ্ববর্তী দেশের চেয়ে কমমূল্যে তাদের চেয়ে ভালো সেবা দিতে হবে। এক্ষেত্রে এআই সল্যুশন দিয়ে তারা তাদের ব্যবসায় বাড়াতে পারে। আমি আশা করি বেসিস-আমেরিকা ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাজারকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বেসিস আমেরিকা ডেস্কের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, আগামী ২৭ নভম্বর আমরা এ বছরের বেসিস সফটএক্সপো করতে যাচ্ছি। আশা করছি, এই এক্সপোতে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সেবা গ্রহীতা কোম্পানিগুলো আসবে। বেসিস সদস্যরা শুধু আমেরিকা থেকেই ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে। তবে জন্য থ্রি বাই থ্রি ফরমুলা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন বেসিস সভাপতি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এক ভিডিও বার্তায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, " বেসিস আমেরিকা ডেস্কের যাত্রা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে, বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে একটি পারস্পরিক ব্যবসায়িক শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসিসের পরিচালক এম আসিফ রহমান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য এবং পরিষেবাগুলির জন্য সবথেকে বড় রপ্তানি গন্তব্য, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ। বেসিস-আমেরিকা ডেস্ক একটি নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যা আমেরিকান কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে সর্বশেষ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রদর্শন, সেমিনার ও বি২বি এর মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম এবং কর্মশালার আয়োজন করে বেসিস সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্ঞান বিনিময়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।







